দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইল। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যৌথভাবে কেনা হবে।
রোববার বর্তমান ও সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ ‘যৌথভাবে অস্ত্র ক্রয়’ করবে। পাশাপাশি ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করতে পারে ইউএই।
সূত্র জানায়, মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইউএই ও ইসরাইলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশ মূলত ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি ও ক্রয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তেল আবিবভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’-এর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়োয়েল গুজান্সকি বলেন, ‘ইউএই-ইসরাইল সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের এত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আগে কখনো হয়নি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইউএই। দেশটিকে লক্ষ্য করে প্রায় তিন হাজার ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইল তাদের ‘আয়রন ডোম’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা ইউএইতে মোতায়েন করেছিল। চলতি মে মাসে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গুজান্সকি বলেন, অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ তহবিল গঠন দুই দেশের জন্যই যৌক্তিক পদক্ষেপ।
তার ভাষায়, ‘ইসরাইলের এখন ইউএই-এর অর্থের প্রয়োজন। আমাদের প্রযুক্তি আছে কিন্তু সম্পদের অভাব। অন্যদিকে ইউএই-এর সম্পদ আছে কিন্তু প্রযুক্তির অভাব।’
এমএস/